বাংলাদেশে ব্যাংক লোন (Bank Loan) নেওয়া এবং আর্থিক আইন (Financial Law) মেনে চলা এখন যেকোনো ব্যবসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৬ সালের সর্বশেষ নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোম্পানিগুলোকে ঋণ নেওয়া, পরিশোধ এবং আর্থিক রিপোর্টিংয়ের ক্ষেত্রে কঠোর আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে হবে।
এই গাইডে আমরা বাংলাদেশে ব্যাংক লোনের আইনি প্রক্রিয়া, ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ নির্দেশিকা, খেলাপি ঋণ (NPL) আইন, এবং আর্থিক খাতে কমপ্লায়েন্স নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
প্রথমে জেনে নিন আপনার ব্যবসার জন্য মৌলিক আইনি কাঠামো: How to Start a Business in Bangladesh।
১. বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক আইনের কাঠামো — Banking & Financial Legal Framework
বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত মূলত নিম্নলিখিত আইন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়:
| আইন/নিয়ন্ত্রক | প্রবর্তন সাল | মূল উদ্দেশ্য | আওতা |
|---|---|---|---|
| বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২ | ১৯৭২ | কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা ও নিয়ন্ত্রণ | সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান |
| ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ | ১৯৯১ | ব্যাংক কোম্পানির লাইসেন্স, পরিচালনা ও তত্ত্বাবধান | সব তফসিলি ব্যাংক |
| আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩ | ১৯৯৩ | অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (NBFI) নিয়ন্ত্রণ | লিজিং, ইনভেস্টমেন্ট, ফাইন্যান্স কোম্পানি |
| মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ | ২০১২ | অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ | সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা |
| ব্যাংক রিজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ | ২০২৫ | সংকটগ্রস্ত ব্যাংকের পুনরুদ্ধার ও বিলিকরণ | সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংক |
| বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ নির্দেশিকা ২০২৬ | ২০২৬ | ঋণের শ্রেণিবিন্যাস, প্রভিশনিং ও মূলধন পর্যাপ্ততা | সব ব্যাংক ও NBFI |
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: ২০২৬ সালের বাংলাদেশ ব্যাংকের তফসিলি ব্যাংক প্রুডেনশিয়াল গাইডলাইন অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর জন্য মূলধন সংরক্ষণ বাফার (Capital Conservation Buffer) ২.৫% এবং লিভারেজ রেশিও ৪% নির্ধারণ করা হয়েছে।
২. ব্যাংক লোনের প্রকারভেদ ও আইনি দিক — Types of Bank Loans & Legal Aspects
বাংলাদেশে ব্যবসায়িক ঋণ প্রধানত চার ধরনের হয়। প্রতিটি ঋণের জন্য আলাদা আইনি ডকুমেন্টেশন প্রয়োজন:
২.১. টার্ম লোন (Term Loan)
টার্ম লোন হলো একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ঋণ, যা সাধারণত ১-১০ বছর মেয়াদি হয়। এর জন্য প্রয়োজন: লোন এগ্রিমেন্ট, প্রমিসরি নোট, পে-রশিদ, এবং সম্পত্তির ডকুমেন্ট। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, টার্ম লোনের জন্য গ্রাহকের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, ক্যাশ ফ্লো প্রজেকশন এবং ক্রেডিট রিপোর্ট বাধ্যতামূলক।
২.২. ওভারড্রাফট (Overdraft) ও ক্যাশ ক্রেডিট (Cash Credit)
স্বল্পমেয়াদি মূলধনের জন্য ওভারড্রাফট ও ক্যাশ ক্রেডিট জনপ্রিয়। এর জামানত হিসেবে সাধারণত ইনভেন্টরি, রিসিভেবল বা ফিক্সড ডিপোজিট রাখা হয়। আইনগতভাবে, ওভারড্রাফটের জন্য হাইপোথিকেশন চুক্তি (Hypothecation Agreement) এবং স্টক রিপোর্ট নিয়মিত জমা দিতে হয়।
২.৩. লেটার অফ ক্রেডিট (Letter of Credit — LC)
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য LC অপরিহার্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইডলাইন ফর ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রানজেকশন (GFET) অনুযায়ী, এলসি খোলার জন্য ইমপোর্ট রেজিস্ট্রেশন, ট্রেড লাইসেন্স, এবং ব্যাংকের সাথে এমডি স্ট্যাম্পে চুক্তি প্রয়োজন। এলসি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সাধারণত Arbitration Act 2001 প্রয়োগ করা হয়।
২.৪. এসএমই ও এগ্রিকালচারাল লোন (SME & Agricultural Loan)
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (SME) এবং কৃষিখাতের জন্য সরকারি উদ্যোগে প্রণোদনা ও ভর্তুকি সহ ঋণ দেওয়া হয়। এই ঋণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী সরলীকৃত কেওয়াইসি (Simplified KYC) এবং ন্যূনতম ডকুমেন্টেশন প্রয়োজন। ব্যবসায়ীদের এই ঋণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য একজন কোম্পানি আইনজীবী এর পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৩. ঋণের জন্য আইনি ডকুমেন্টেশন — Legal Documentation for Loans
বাংলাদেশে ব্যাংক লোন নেওয়ার জন্য নিম্নলিখিত আইনি ডকুমেন্ট প্রয়োজন:
- লোন এপ্লিকেশন ফর্ম: ব্যাংক নির্ধারিত ফরমে আবেদন
- ট্রেড লাইসেন্স: স্থানীয় সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত বর্তমান লাইসেন্স
- TIN সার্টিফিকেট: আয়কর রিটার্ন সহ করদাতার শনাক্তকরণ নম্বর
- কোম্পানি নিবন্ধন সার্টিফিকেট: আরজেএসসি বা যৌথ মূলধন কোম্পানি থেকে
- মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেলস অফ অ্যাসোসিয়েশন: কোম্পানির গঠনতন্ত্র
- বোর্ড রেজুলেশন: লোন নেওয়ার জন্য পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত
- জামানত সংক্রান্ত ডকুমেন্ট: সম্পত্তির দলিল, ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট
- ব্যক্তিগত গ্যারান্টি: পরিচালকদের ব্যক্তিগত গ্যারান্টি
- অডিটেড ব্যালেন্স শিট: গত ৩ বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী
- প্রজেক্ট রিপোর্ট: ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও ক্যাশ ফ্লো প্রজেকশন
আপনার কোম্পানির জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সঠিকভাবে প্রস্তুত করতে একজন ব্যবসায়িক চুক্তি আইনজীবী এর সাহায্য নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
৪. খেলাপি ঋণ (NPL) ও আইনি পরিণতি — Non-Performing Loans & Legal Consequences
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো খেলাপি ঋণ (Non-Performing Loan — NPL)। ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের প্রায় ৮-১০% খেলাপি ঋণ। খেলাপি ঋণের আইনি প্রক্রিয়া নিন্মরূপ:
| ঋণের শ্রেণি | খেলাপি হওয়ার সময় | আইনি ব্যবস্থা |
|---|---|---|
| সাব-স্ট্যান্ডার্ড | ৩-৬ মাস বকেয়া | ঋণ পুনর্গঠনের চিঠি, নোটিশ |
| ডাউটফুল | ৬-১২ মাস বকেয়া | আদালতে মামলা, জামানত বাজেয়াপ্ত করার নোটিশ |
| ব্যাড/লস | ১২ মাসের বেশি | ঋণ আদালতে মামলা (Artha Rin Adalat), জামানত নিলাম |
অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ (Artha Rin Adalat Ain 2003): এই আইনের অধীনে ব্যাংক খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য মামলা করতে পারে। মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সময়সীমা ৩০ দিন। ইচ্ছাকৃত খেলাপির (Willful Defaulter) বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে — যার মধ্যে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, পরিচালক পদে থাকার অযোগ্যতা, এবং সম্পদ জব্দ করা অন্তর্ভুক্ত।
আমার অভিজ্ঞতা: গত ১০ বছরে আমি ৫০+ খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত মামলা পরিচালনা করেছি। আমার দেখা অধিকাংশ ক্ষেত্রে, সময়মতো আইনি পরামর্শ না নেওয়ার কারণে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে গেছে। একজন ক্লায়েন্টের ২ কোটি টাকার ঋণ আমরা সময়মতো পুনর্গঠন করে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছিলাম। কিন্তু আরেক ক্লায়েন্ট, যে আইনি পরামর্শ নেয়নি, তার ৫ কোটি টাকার ঋণের জন্য সম্পত্তি নিলামে চলে যায়।
আমার পরামর্শ — ঋণ খেলাপি হওয়ার আগেই একজন অভিজ্ঞ ব্যাংকিং আইনজীবী এর সাথে পরামর্শ করুন।
একজন অভিজ্ঞ ব্যাংকিং আইনজীবী খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানে সাহায্য করতে পারেন।
৫. বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ নির্দেশিকা ২০২৬ — BB Loan Guidelines 2026
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৬ সালের তফসিলি ব্যাংক প্রুডেনশিয়াল গাইডলাইনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে:
- একক ঋণগ্রাহকের সীমা (Single Borrower Limit): একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ ঋণের পরিমাণ ব্যাংকের মোট মূলধনের ২৫% (নিশ্চিত জামানত থাকলে ৩৫%)
- অভ্যন্তরীণ ঋণের সীমা (Insider Loan Limit): পরিচালকরা শেয়ার মূল্যের সর্বোচ্চ ৫০% পর্যন্ত ঋণ পেতে পারেন; সিইও পদে থাকাকালীন কোনো ঋণ নিষিদ্ধ
- ঋণ শ্রেণিবিন্যাস ও প্রভিশনিং: সাব-স্ট্যান্ডার্ডের জন্য ২০%, ডাউটফুলের জন্য ৫০%, ব্যাড/লসের জন্য ১০০% প্রভিশন বাধ্যতামূলক
- মূলধন পর্যাপ্ততা (Capital Adequacy): বাসেল III অনুযায়ী মূলধন সংরক্ষণ বাফার ২.৫%, লিভারেজ রেশিও ৪%
- বড় ঋণের রিপোর্টিং: ১০ কোটি টাকার বেশি ঋণ বাংলাদেশ ব্যাংকে জানাতে হবে
ডেটা: ২০২৫ সালের বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৬ লাখ কোটি টাকা, যার মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ১.৪ লাখ কোটি টাকা।
৬. আর্থিক খাতে কমপ্লায়েন্স — Financial Compliance Requirements
বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার জন্য নিম্নলিখিত আর্থিক কমপ্লায়েন্স বাধ্যতামূলক:
৬.১. অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং (AML) কমপ্লায়েন্স
মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত) অনুযায়ী, প্রতিটি ব্যবসাকে — বিশেষ করে আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে — নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নিতে হবে:
- কেওয়াইসি (KYC) নীতি অনুসরণ — প্রতিটি গ্রাহকের পরিচয় যাচাই
- লেনদেন মনিটরিং — সন্দেহজনক লেনদেন চিহ্নিত করা
- সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট (STR) — বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (BFIU) রিপোর্ট
- কমপ্লায়েন্স অফিসার নিয়োগ — AML নীতি বাস্তবায়নের জন্য
৬.২. কর কমপ্লায়েন্স ও আর্থিক রিপোর্টিং
আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী:
- কর্পোরেট করের হার: তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য ২০%, অন তালিকাভুক্তের জন্য ২৭.৫%
- সর্বনিম্ন কর: মোট প্রাপ্তির ০.৬-১% (ক্ষতি হলেও দিতে হবে)
- বার্ষিক নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক
- ই-টিআইএন (e-TIN) বাধ্যতামূলক — সকল কোম্পানির জন্য
৬.৩. বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ
বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭ (সংশোধিত ২০১৫) ও GFET ২০১৮ (সর্বশেষ সংশোধিত) অনুযায়ী:
- বৈদেশিক রেমিট্যান্সের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন প্রয়োজন
- মুনাফা প্রত্যাবাসনের (Profit Repatriation) জন্য বিশেষ অনুমতি
- বিদেশি লোনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক
- অনুমোদিত ডিলার (ব্যাংক) এর মাধ্যমেই লেনদেন করতে হবে
৭. কোম্পানির জন্য আর্থিক আইন লঙ্ঘনের শাস্তি — Penalties for Financial Law Violations
আর্থিক আইন লঙ্ঘনের শাস্তি গুরুতর হতে পারে। নিচের টেবিলটি দেখুন:
| লঙ্ঘনের ধরন | প্রাসঙ্গিক আইন | শাস্তি |
|---|---|---|
| ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণ (Willful Default) | ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ | ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, পরিচালকের পদ থেকে অপসারণ, সম্পদ জব্দ |
| মানি লন্ডারিং | মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ | সর্বোচ্চ লেনদেনের দ্বিগুণ বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা + ১২ বছর কারাদণ্ড |
| কর ফাঁকি | আয়কর আইন, ২০২৩ | ১০% জরিমানা + সুদ, অপরাধীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা |
| জালিয়াতি ও প্রতারণা | ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ | ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড + অর্থ জরিমানা |
| বৈদেশিক মুদ্রা আইন লঙ্ঘন | বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭ | ৫ বছর কারাদণ্ড + জরিমানা, কোম্পানির সম্পদ বাজেয়াপ্ত |
৮. আর্থিক বিরোধ নিষ্পত্তি — Financial Dispute Resolution
ব্যাংকিং ও আর্থিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বাংলাদেশে একাধিক আইনি পথ রয়েছে:
- অর্থ ঋণ আদালত (Artha Rin Adalat): ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ আদায়ের মামলা। মামলা নিষ্পত্তির সময়সীমা ৬ মাস (আইন অনুযায়ী)।
- আর্থিক খাতের সালিশ (Arbitration): Arbitration Act 2001 অনুযায়ী আর্থিক বিরোধ নিষ্পত্তি। দ্রুত ও কম খরচের বিকল্প।
- আপিল বিভাগ: অর্থ ঋণ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করার সময়সীমা ৩০ দিন।
- বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যস্থতা: ছোটখাটো বিরোধের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্টে অভিযোগ করা যায়।
আমার দৃষ্টিকোণ: সালিশ (Arbitration) পদ্ধতি ব্যবহার করে আমি অনেক ক্লায়েন্টের ব্যাংকিং বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করতে পেরেছি। একটি ক্ষেত্রে, ১.৫ কোটি টাকার বিতর্ক আমরা মাত্র ৪ মাসে সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করি — যা আদালতে গেলে ২-৩ বছর লাগত। Arbitration Act 2001-এর সঠিক ব্যবহার করে সময় ও অর্থ উভয়ই বাঁচানো সম্ভব।
৯. FAQs — প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (AEO Optimized)
প্রশ্ন: বাংলাদেশে ব্যাংক লোন পেতে কী কী শর্ত পূরণ করতে হয়?
উত্তর: বৈধ ট্রেড লাইসেন্স, TIN সার্টিফিকেট, কোম্পানি নিবন্ধন, ৩ বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, এবং প্রকল্প রিপোর্ট প্রয়োজন। ঋণের ধরন অনুযায়ী অতিরিক্ত জামানত প্রয়োজন হতে পারে।
প্রশ্ন: কোম্পানির নামে ব্যাংক লোন নিতে কী কী ডকুমেন্ট লাগে?
উত্তর: লোন এপ্লিকেশন ফর্ম, ট্রেড লাইসেন্স, TIN, কোম্পানি নিবন্ধন সার্টিফিকেট, এমওএ/এওএ, বোর্ড রেজুলেশন, অডিটেড ব্যালেন্স শিট (৩ বছর), জামানতের দলিল, এবং পরিচালকদের ব্যক্তিগত গ্যারান্টি।
প্রশ্ন: খেলাপি ঋণ হলে কী করবেন?
উত্তর: প্রথমে ব্যাংকের সাথে ঋণ পুনর্গঠনের চেষ্টা করুন। সম্ভব না হলে, অভিজ্ঞ ব্যাংকিং আইনজীবীর পরামর্শ নিন। অর্থ ঋণ আদালতে মামলা হলে সময়মতো জবাব দিন। ইচ্ছাকৃত খেলাপি (Willful Defaulter) হলে শাস্তি আরও কঠোর — এক্ষেত্রে ব্যাংকিং আইনজীবী নিয়োগ জরুরি।
প্রশ্ন: বাংলাদেশে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য কমপ্লায়েন্স কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: কমপ্লায়েন্স না মানলে ভারী জরিমানা, লাইসেন্স বাতিল, এমনকি কারাদণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, আয়কর আইন, এবং বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন — তিনটিরই কঠোর প্রয়োগ চলছে ২০২৬ সালে।
প্রশ্ন: ব্যাংক ও আর্থিক বিরোধ নিষ্পত্তির সবচেয়ে দ্রুত উপায় কী?
উত্তর: সালিশ (Arbitration) সবচেয়ে দ্রুত উপায়। Arbitration Act 2001-এর অধীনে সালিশি প্রক্রিয়ায় ৩-৬ মাসের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি সম্ভব। অন্যদিকে, অর্থ ঋণ আদালতে মামলা করলে ৬ মাস থেকে ২ বছর সময় লাগতে পারে।
১০. উপসংহার — Conclusion
বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক আইনের দৃশ্যপট ২০২৬ সালে এসে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। Bank Resolution Ordinance 2025, বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন প্রুডেনশিয়াল গাইডলাইন, এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে কঠোরতা — সবকিছু মিলিয়ে ব্যবসাগুলোর জন্য আইনি জটিলতা বেড়েছে।
যে কোম্পানিগুলো আজই সঠিক আইনি পরামর্শ নিয়ে ঋণ নেওয়া এবং আর্থিক কমপ্লায়েন্স শুরু করবে, তারা ভবিষ্যতে বড় জরিমানা ও আইনি ঝামেলা থেকে রক্ষা পাবে। আর্থিক আইন মেনে চলা শুধু বাধ্যবাধকতা নয় — এটি একটি টেকসই ব্যবসার ভিত্তি।
আপনার কোম্পানির জন্য ব্যাংক লোন, আর্থিক কমপ্লায়েন্স বা আইনি পরামর্শের প্রয়োজন হলে আজই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। একজন অভিজ্ঞ ব্যাংকিং ও কোম্পানি আইনজীবী আপনার প্রয়োজনীয় সব আইনি সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
লেখক সম্পর্কে — About the Author
আরও পড়ুন:
- Bangladesh Data Protection Act 2026: কোম্পানির জন্য ডেটা সুরক্ষা গাইড
- Bangladesh Labour Law 2026: Complete Guide for Companies
- E-Commerce Business Registration & Legal Compliance Bangladesh
- How to Register a Company in Bangladesh
- Top 10 Legal Mistakes Bangladeshi Entrepreneurs Make

Nashir Ahmed Kushol is a corporate lawyer in Dhaka and Head of Chamber at Legal Advice BD. With over 10 years of experience in corporate and civil law, he specializes in company registration, corporate compliance, FDI assistance, tax advisory, and startup legal support.
He holds an LL.B (Hons) and Diploma in Law from the University of London, and a Post Graduate Diploma in Customs, VAT, and Income Tax from AIUB. He is currently pursuing the Bar Transfer Test to qualify as a Barrister in England and Wales.
Since founding Legal Advice BD in 2018, he has served 100+ corporate clients, completed 150+ company formations, filed 300+ RJSC returns, and advised on a USD 2 Billion LIBOR to SOFR transition project. He recovered over BDT 15 Million for clients in 2023 through litigation and ADR.
He is a proud member of the Dhaka Bar Association (Member #28086) and Dhaka Taxes Bar Association (Member #N00908), ensuring his practices align with the latest legal standards in Bangladesh.