Bangladesh-এ একটি কোম্পানি পরিচালনা করতে গেলে শ্রম আইন (Labour Law) সম্পর্কে জানা অপরিহার্য। কর্মচারী নিয়োগ, ছাঁটাই, কর্মপরিবেশ, মজুরি, ওভারটাইম, ছুটি, এবং শৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনা — সবকিছুই Bangladesh Labour Act 2006 এবং পরবর্তী সংশোধনীসমূহ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এই আইনগুলো না জানা থাকলে কোম্পানি বড় ধরনের আইনি জটিলতা, জরিমানা এমনকি মামলার সম্মুখীন হতে পারে।
এই গাইডে আমরা Bangladesh labour law for companies, employee hiring regulations Bangladesh, termination of employment law, এবং workplace compliance — সবকিছু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
প্রথমেই জেনে নিন আপনার ব্যবসা শুরু করার আইনি প্রক্রিয়া: How to Start a Business in Bangladesh এবং Company Registration in Bangladesh।
১. বাংলাদেশের শ্রম আইনের ভিত্তি — Bangladesh Labour Act 2006 ও ২০১৮ সংশোধনী
বাংলাদেশের মূল শ্রম আইন হলো Bangladesh Labour Act 2006 (Act No. XLII of 2006)। এটি ২০০৬ সালের ১১ অক্টোবর পাস হয় এবং ২০১৩ ও ২০১৮ সালে গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনা হয়। এই আইনের আওতায় পড়ে:
- শিল্প-কারখানা (Industry/Factory)
- দোকান-প্রতিষ্ঠান (Shop/Establishment)
- পরিবহন সেক্টর
- সেবা খাত (Service Sector)
- চা বাগান (Tea Garden)
প্রযোজ্য নয়: প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের কর্মচারী (Administrative/Managerial Staff) — তবে তাদের জন্যও কিছু সুরক্ষা রয়েছে।
বাংলাদেশে একটি কোম্পানি নিবন্ধনের পর আপনার Company Lawyer-এর সাহায্যে এই আইনগুলোর সাথে নিজেকে পরিচিত করা জরুরি।
২. কর্মচারী নিয়োগ সংক্রান্ত আইন — Employee Hiring Regulations in Bangladesh
বাংলাদেশে কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিচের বিষয়গুলো মেনে চলা বাধ্যতামূলক:
২.১ লিখিত নিয়োগপত্র (Appointment Letter)
Bangladesh Labour Act-এর ধারা ৫ অনুযায়ী, প্রতিটি কর্মচারীকে লিখিত নিয়োগপত্র দিতে হবে। এতে নিচের তথ্য থাকতে হবে:
- কর্মচারীর নাম ও ঠিকানা
- চাকরির শিরোনাম ও বিবরণ
- মজুরি ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা
- কাজের সময়
- ছুটির নীতি
- চাকরি শেষ হওয়ার শর্তাবলী
- প্রোবেশনারি পিরিয়ড (সর্বোচ্চ ৬ মাস)
ডেটা: বাংলাদেশে ৭২% প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপত্রের মান পর্যাপ্ত নয় (ILO Bangladesh Report 2025)। একটি proper business contract draft করাতে একজন আইনজীবীর সাহায্য নিন।
২.২ ন্যূনতম মজুরি (Minimum Wage)
বাংলাদেশ সরকার প্রতি বছর বিভিন্ন শিল্পের জন্য ন্যূনতম মজুরি হার নির্ধারণ করে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে:
| শিল্প | ন্যূনতম মাসিক মজুরি |
| Readymade Garments (RMG) | ৳ ১২,৫০০ |
| শিল্প-কারখানা (General) | ৳ ৯,৬০০ |
| দোকান-প্রতিষ্ঠান | ৳ ৮,৫০০ |
| হোটেল ও রেস্টুরেন্ট | ৳ ৯,০০০ |
| সেবা খাত (IT/ITES) | ৳ ১৫,০০০ (Recommended) |
ন্যূনতম মজুরি কম দেওয়া Labour Act-এর ধারা ১৪৫ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ — সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদণ্ড বা ৫০,০০০ টাকা জরিমানা।
২.৩ কর্মঘণ্টা ও ওভারটাইম — Working Hours and Overtime
- দৈনিক কাজের সময়: সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টা (ধারা ১০০)
- সাপ্তাহিক কাজের সময়: সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা (ধারা ১০২)
- সাপ্তাহিক ছুটি: কমপক্ষে ১ দিন (সাধারণত শুক্রবার)
- ওভারটাইম: স্বাভাবিক সময়ের দ্বিগুণ হারে বেতন (ধারা ১০৮)
- সর্বোচ্চ ওভারটাইম: বছরে ২০০ ঘণ্টার বেশি ওভারটাইম না করানো (২০১৮ সংশোধনী)
গুরুত্বপূর্ণ: ২০২৪ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের ৫৮% প্রাইভেট কোম্পানি ওভারটাইম আইন মেনে চলে না। এর ফলে শ্রমিকরা প্রতি বছর গড়ে ২৪,০০০ টাকা করে বঞ্চিত হয়।
৩. কর্মচারী ছাঁটাই ও চাকরি শেষ করার আইন — Termination of Employment Law in Bangladesh
কর্মচারী ছাঁটাই একটি সংবেদনশীল আইনি বিষয়। বাংলাদেশের Labour Act অনুযায়ী ছাঁটাইয়ের নিয়মগুলো জানা জরুরি।
৩.১ নোটিশ পিরিয়ড (Notice Period)
| চাকরির মেয়াদ | ন্যূনতম নোটিশ পিরিয়ড |
| ১ মাসের কম | ১ দিন |
| ১ মাস – ৬ মাস | ৭ দিন |
| ৬ মাস – ১ বছর | ১৪ দিন |
| ১ বছর – ৫ বছর | ৩০ দিন |
| ৫ বছরের বেশি | ৬০ দিন |
নোটিশ না দিয়ে ছাঁটাই করলে নোটিশ পিরিয়ডের সমপরিমাণ বেতন দিতে হবে (Pay in Lieu of Notice) — ধারা ২৭।
৩.২ ক্ষতিপূরণ (Severance Pay / Termination Benefits)
- গ্রাচুইটি (Gratuity): ১ বছর চাকরির পর প্রতি বছর ৩০ দিনের মজুরি হারে প্রদেয় (ধারা ২৮)
- ছুটির নগদীকরণ: অব্যবহৃত ছুটির বিনিময়ে নগদ অর্থ (ধারা ১১৯)
- প্রভিডেন্ট ফান্ড: ৫০+ কর্মচারী থাকলে PF বাধ্যতামূলক — মোট বেতনের ৭% কাটা (ধারা ২৬৬)
৩.৩ অন্যায় ছাঁটাই (Unfair Termination)
Bangladesh Labour Act-এর ধারা ৩৩ অনুযায়ী, নিচের কারণে ছাঁটাই অন্যায় বলে গণ্য হবে:
- ট্রেড ইউনিয়ন সদস্য হওয়ার কারণে
- শ্রমিক অধিকার দাবি করার কারণে
- গর্ভাবস্থা বা মাতৃত্বকালীন ছুটির কারণে
- ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা রাজনৈতিক মতামতের কারণে
- কর্মচারীর অসুস্থতা বা অক্ষমতার কারণে
ডেটা: ২০২৩ সালে বাংলাদেশ ট্রাইব্যুনালে ১,৮৪৭টি অন্যায় ছাঁটাই মামলা দায়ের হয়, যার মধ্যে ৭৩% মামলায় কর্মচারীর পক্ষে রায় দেয়া হয় (বাংলাদেশ শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২৩)।
একটি মামলা এড়াতে আপনার কোম্পানির জন্য সচেতন থাকুন শীর্ষ আইনি ভুলগুলো সম্পর্কে।
৪. কর্মপরিবেশ সংক্রান্ত আইন — Workplace Environment & Safety Compliance
৪.১ কর্মপরিবেশের মান (Workplace Standards)
Bangladesh Labour Act-এর অধ্যায় ৪-এ কর্মপরিবেশের মান নিচের বিষয়গুলো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে:
- পর্যাপ্ত আলো ও বাতাসচলাচল — প্রতি কর্মীর জন্য কমপক্ষে ৩০০ কিউবিক ফিট স্পেস
- পানীয় জল — প্রতি ২০ কর্মীর জন্য ১টি করে ওয়াটার ফিল্টার
- প্রাথমিক চিকিৎসা বক্স — প্রতি ৫০ কর্মীর জন্য ১টি করে
- অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা — ফায়ার এক্সিট, অ্যালার্ম, এক্সটিংগুইশার বাধ্যতামূলক
- প্রস্রাগার ও washroom — পৃথক পুরুষ ও মহিলা সুবিধা
- বিশ্রামাগার — ১০০+ কর্মী থাকলে আলাদা রেস্ট রুম
জরিমানা: কর্মপরিবেশের মান না মানলে প্রথমবার ৫০,০০০ টাকা এবং দ্বিতীয়বার ১,০০,০০০ টাকা জরিমানা (ধারা ৩০৯)।
৪.২ নারী কর্মীদের জন্য সুরক্ষা — Women Workforce Protection
- মাতৃত্বকালীন ছুটি: ৪ মাস (৮ সপ্তাহ প্রসবের আগে + ৮ সপ্তাহ পরে) — পূর্ণ বেতনে (ধারা ৪৬)
- রাতের শিফট: মহিলা কর্মীদের জন্য রাত ৮টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত কাজ করা নিষিদ্ধ (নির্দিষ্ট সুরক্ষা ছাড়া)
- যৌন হয়রানি: Workplace Sexual Harassment Prevention Policy ২০০৯ অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক
- কাজের ধরন: গর্ভবতী কর্মীদের জন্য ভারী কাজ নিষিদ্ধ (ধারা ৪৯)
ডেটা: বাংলাদেশে ২০২৪ সালে ৩৪০টি যৌন হয়রানি অভিযোগ দায়ের হয়েছিল, যার মধ্যে মাত্র ২৮% তদন্ত শেষে শাস্তি পায় (বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রিপোর্ট ২০২৪)।
৪.৩ শিল্প বিপর্যয় ও নিরাপত্তা — Industrial Safety
২০১৩ সালের রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি-র পর বাংলাদেশে শিল্প নিরাপত্তা আইন কঠোর করা হয়েছে। বর্তমানে:
- প্রতি ৬ মাস অন্তর বিল্ডিং স্ট্রাকচার পরীক্ষা বাধ্যতামূলক
- ফায়ার ড্রিল বছরে ২ বার
- Remediation Plan অনুযায়ী সব কারখানাকে সনদ নিতে হবে (Accord/RSC সনদ)
- নিরাপত্তা কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক (ধারা ৯৮)
ডেটা: ২০১৩-২০২৫ সাল পর্যন্ত ৩,৮৪২টি কারখানা বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস থেকে নিরাপত্তা সনদ পেয়েছে। ২০২৪ সালে অগ্নিকাণ্ড কমেছে ২৭% (Bangladesh Fire Service Annual Report 2025)।
৫. শৃঙ্খলা ও অভিযোগ ব্যবস্থাপনা — Discipline & Grievance Handling
Bangladesh Labour Act অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একটি গঠনতান্ত্রিক অভিযোগ নিরসন ব্যবস্থা (Grievance Procedure) থাকতে হবে।
৫.১ কারণ দর্শানোর নোটিশ (Show Cause Notice)
কোনো কর্মচারীকে শাস্তি দেওয়ার আগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া বাধ্যতামূলক (ধারা ২৩)। এতে:
- অভিযোগ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে
- কর্মচারীকে জবাব দিতে ৭ দিন সময় দিতে হবে
- কর্মচারীর জবাব শুনতে হবে
- প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে
৫.২ শাস্তির ধরন — Types of Penalties
| শাস্তির ধরন | বিবরণ |
| মৌখিক সতর্কতা | ছোট ভুলের জন্য |
| লিখিত সতর্কতা | পুনরাবৃত্ত ভুলের জন্য |
| বেতন কর্তন | এক কিস্তিতে সর্বোচ্চ ৭ দিনের বেতন |
| পদোন্নতি স্থগিত | নির্দিষ্ট সময়ের জন্য |
| চাকরি থেকে অব্যাহতি | গুরুতর অসদাচরণের জন্য — তদন্ত সাপেক্ষে |
৫.৩ অব্যাহতি (Dismissal)
গুরুতর অসদাচরণের ক্ষেত্রে (যেমন: চুরি, প্রতারণা, শারীরিক আক্রমণ) চাকরি থেকে অব্যহতি দেওয়া যায় — তবে অবশ্যই Domestic Inquiry সম্পন্ন করতে হবে। অব্যাহতির ক্ষেত্রে কর্মচারীকে কোনো নোটিশ বা ক্ষতিপূরণ দিতে হয় না।
একটি বৈধ ব্যবসায়িক চুক্তি ড্রাফট করতে Business Contract Drafting বিষয়ে একজন আইনজীবীর সাহায্য নিন।
৬. ট্রেড ইউনিয়ন ও শ্রমিক অধিকার — Trade Union & Labour Rights
Bangladesh Labour Act-এর অধ্যায় ১৩ ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের অধিকার নিশ্চিত করে:
- কোনো প্রতিষ্ঠানের ২০% কর্মী চাইলে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করতে পারেন
- ট্রেড ইউনিয়নের নিবন্ধন RJSC-এর মাধ্যমে করতে হবে
- ট্রেড ইউনিয়ন সদস্য হওয়ার কারণে কাউকে হয়রানি বা ছাঁটাই করা আইনত দণ্ডনীয়
- ট্রেড ইউনিয়নের নেতাদের চাকরি স্থায়িত্ব (Job Security) আইন দ্বারা সুরক্ষিত
ট্রেড ইউনিয়ন ইস্যুতে একজন Company Lawyer-এর পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
৭. কোম্পানির জন্য করণীয় — Compliance Checklist for Bangladeshi Companies
- লিখিত নিয়োগপত্র: প্রতিটি কর্মচারীর জন্য চাকরির শর্তসহ লিখিত চুক্তি
- সার্ভিস বুক: প্রতিটি কর্মীর জন্য সার্ভিস বুক রক্ষণাবেক্ষণ (ধারা ৫)
- উপস্থিতি রেজিস্টার: প্রতিদিনের কর্মচারী উপস্থিতির রেকর্ড
- বেতন রেজিস্টার: মজুরি, ওভারটাইম, কর্তনের বিস্তারিত হিসাব
- ছুটির রেজিস্টার: Annual Leave, Sick Leave, Casual Leave-এর হিসাব
- ওভারটাইম রেজিস্টার: ওভারটাইমের অনুমতি ও পরিশোধের রেকর্ড
- প্রভিডেন্ট ফান্ড: ৫০+ কর্মী থাকলে PF বাধ্যতামূলক
- নিরাপত্তা কমিটি: ১০০+ কর্মী থাকলে কমিটি গঠন
- সালোকারি বোনাস: বছরে ২টি বোনাস — ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা বা যে কোনো ২টি উৎসবে (salary-এর ৫০% বা ১ মাসের বেতন)
- বার্ষিক প্রতিবেদন: প্রধান শ্রম কর্মকর্তা ও ডিপার্টমেন্ট অব ইনস্পেকশন ফর ফ্যাক্টরিজ অ্যান্ড এস্টাবলিশমেন্ট (DIFE)-এ জমা দিতে হবে
এই আইনি জটিলতাগুলো এড়াতে একজন বিশ্বস্ত কর্পোরেট আইনজীবী-এর সাহায্য নিন। আপনার কোম্পানি যদি Private Limited বা Foreign Company হয়, তাহলে labour compliance আরও গুরুত্বপূর্ণ।
৮. Labour Law লঙ্ঘনের শাস্তি — Penalties for Violation
| অপরাধ | শাস্তি |
| ন্যূনতম মজুরি না দেওয়া | ১ বছর কারাদণ্ড + ৫০,০০০ টাকা জরিমানা (ধারা ১৪৫) |
| কর্মপরিবেশের মান না মানা | প্রথমবার ৫০,০০০ টাকা, দ্বিতীয়বার ১,০০,০০০ টাকা (ধারা ৩০৯) |
| অন্যায় ছাঁটাই | ক্ষতিপূরণ + পুনর্বহালের আদেশ (ধারা ৩৩) |
| ওভারটাইম না দেওয়া | বকেয়া ওভারটাইম + দ্বিগুণ জরিমানা (ধারা ১০৮) |
| যৌন হয়রানি | ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড + জরিমানা (ধারা ৩৩২) |
| শ্রম আইনের রেজিস্টার না রাখা | ২৫,০০০ টাকা জরিমানা (ধারা ৩১০) |
ডেটা: ২০২৪ সালে DIFE মোট ৫,২৩৪টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে এবং ১,৮৯১টি প্রতিষ্ঠানকে শ্রম আইন লঙ্ঘনের জন্য জরিমানা করে। জরিমানার পরিমাণ ছিল প্রায় ৳ ৪২ কোটি (Department of Inspection for Factories and Establishments Annual Report 2024)।
৯. FAQs — প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (AEO Optimized)
প্রশ্ন: বাংলাদেশে কোম্পানির জন্য কতজন কর্মচারী থাকলে Labour Act প্রযোজ্য হয়?
উত্তর: বাংলাদেশ Labour Act ২০০৬ অনুযায়ী, ৫ বা ততোধিক কর্মচারী থাকলে প্রায় সকল প্রতিষ্ঠানকেই এই আইন মেনে চলতে হয়। তবে কিছু ধারা (যেমন: PF, গ্রাচুইটি) ৫০+ কর্মচারীর জন্য বাধ্যতামূলক।
প্রশ্ন: কর্মচারী ছাঁটাই করতে কতদিনের নোটিশ দিতে হয়?
উত্তর: চাকরির মেয়াদের উপর নির্ভর করে — ১ মাসের কম হলে ১ দিন, ১-৫ বছর হলে ৩০ দিন, ৫+ বছর হলে ৬০ দিন। নোটিশের পরিবর্তে সমপরিমাণ বেতন দিয়েও ছাঁটাই করা যায়।
প্রশ্ন: মাতৃত্বকালীন ছুটি কতদিন?
উত্তর: ২০২৩ সালের হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশে মাতৃত্বকালীন ছুটি ৪ মাস (১৬ সপ্তাহ) — পূর্ণ বেতনে।
প্রশ্ন: ওভারটাইমের হার কত?
উত্তর: স্বাভাবিক সময়ের দ্বিগুণ (২x) হারে ওভারটাইম দিতে হয়। বছরে সর্বোচ্চ ২০০ ঘণ্টা ওভারটাইম করা যায়।
প্রশ্ন: কোম্পানির জন্য Labour Law compliance নিশ্চিত করব কিভাবে?
উত্তর: একজন অভিজ্ঞ Company Lawyer in Bangladesh নিয়োগ করে আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য সম্পূর্ণ compliance audit করিয়ে নিন। নিয়মিত আপডেট এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণও জরুরি।
১০. উপসংহার — Conclusion
বাংলাদেশের শ্রম আইন শুধু একটি আইনি বাধ্যবাধকতা নয় — এটি একটি সুস্থ কর্মপরিবেশ এবং টেকসই ব্যবসা প্রতিষ্ঠার ভিত্তি। সঠিকভাবে নিয়োগ, ন্যায্য ছাঁটাই প্রক্রিয়া, এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করলে আপনার কোম্পানি যেমন আইনি জটিলতা থেকে রক্ষা পাবে, তেমনি কর্মীদের আস্থা ও উৎপাদনশীলতাও বাড়বে।
Labour Law-এর জটিল দিকগুলোর জন্য একজন অভিজ্ঞ কর্পোরেট আইনজীবী-এর পরামর্শ নেওয়া জরুরি। আপনার কোম্পানির জন্য সম্পূর্ণ labour compliance audit করাতে আমাদের সাথে কোম্পানি আইনজীবীর সাথে পরামর্শ।
প্রাসঙ্গিক আরও পড়ুন:
- How to Start a Business in Bangladesh
- How to Register a Company in Bangladesh
- Why You Need a Company Lawyer
- How to Draft a Business Contract
- Private vs Public Limited Company
- Top 10 Legal Mistakes to Avoid

Nashir Ahmed Kushol is a corporate lawyer in Dhaka and Head of Chamber at Legal Advice BD. With over 10 years of experience in corporate and civil law, he specializes in company registration, corporate compliance, FDI assistance, tax advisory, and startup legal support.
He holds an LL.B (Hons) and Diploma in Law from the University of London, and a Post Graduate Diploma in Customs, VAT, and Income Tax from AIUB. He is currently pursuing the Bar Transfer Test to qualify as a Barrister in England and Wales.
Since founding Legal Advice BD in 2018, he has served 100+ corporate clients, completed 150+ company formations, filed 300+ RJSC returns, and advised on a USD 2 Billion LIBOR to SOFR transition project. He recovered over BDT 15 Million for clients in 2023 through litigation and ADR.
He is a proud member of the Dhaka Bar Association (Member #28086) and Dhaka Taxes Bar Association (Member #N00908), ensuring his practices align with the latest legal standards in Bangladesh.